৩০ মে ১৯৮১ একটি বাংলাদেশের মৃত্যু

()

টাইম ম্যাগাজিন, ১৯৮১ সালের জুনের সংখ্যায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যু সম্পর্কিত একটি পূর্ণ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদনটি ছিল এই:

The slain Zia had been one of South Asia’s most promising leaders, a man who lived modestly while others chose corruption, who searched tirelessly for solutions to his country’s awesome poverty. He was also a fatalist. Once, reflecting on his service for Pakistan in the 1965 war with India over Kashmir, he observed:

“There is no scientific explanation for a man to die or live. In front of me many people died, but I got a bonus of life.”

He used that bonus well, but last week it ran out.

অর্থাৎ প্রয়াত  জিয়া ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল নেতা, যেখানে অন্যরা  দুর্নীতিকেই বেঁচে নিয়েছিলেন সেখানে তিনি  সাধারণ বিনয়ী জীবনযাপন করতেন, যিনি তার দেশের ভয়াবহ দারিদ্রতা সমাধানের জন্য অক্লান্তভাবে অনুসন্ধান করে যেতেন।  তিনি একজন প্রাণঘাতীও ছিলেন। একবার ১৯৬৫ সালে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সাথে যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে তাঁর সেবার প্রতিচ্ছবি দেখিয়ে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন:

একজন মানুষের মৃত্যু বা বেঁচে থাকার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। আমার সামনে অনেক লোক মারা গিয়েছিল, কিন্তু আমি জীবন বোনাস পেয়েছি।

তিনি সেই বোনাসটি ভালভাবে ব্যবহার করেছিলেন, তবে গত সপ্তাহে তা ফুরিয়ে গেছে

 

(২)

দেশীয় অঙ্গনে দরিদ্র বিমোচন, গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান যেমন ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা, সার্ক গঠন এবং মুসলিম উম্মার একত্রীকরণ সহ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় তুরস্ক তার সম্মানের জন্য তার মৃত্যুর পরে আঙ্কারার একটি রাস্তার নাম দিয়েছে জিয়াউর রহমান কাদ্দেসি

()

২০০৪ সালে "সার্ক" পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।  প্রবর্তনের পর এর প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয় সার্কের প্রতিষ্টাতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে।  জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনায়কতা ও দর্শন জন্য দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক ২০০৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে সার্কসম্মানে ভূষিত করে।  জিয়াউর রহমান তনয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারমান তারেক রহমান শহীদ জিয়াউর রহমানের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, জিয়াউর রহমানের কারণেই  সার্কের ধারণাটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল এবং এই পুরস্কারটি কেবলমাত্র তাঁর জন্যই  উপযুক্ত।  এই শীর্ষ সম্মেলনে প্রথম সার্ক পুরষ্কারে তাঁর স্মৃতির প্রতি আমরা সম্মান করি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ বলেছেন, প্রয়াত নেতার একটি 'অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টি' ছিল এবং তিনিই সার্কের ধারণাটি শুরু করেছিলেন কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও অগ্রগতির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য। "আমাদের অবশ্যই এই দৃষ্টিভঙ্গিগত ধারণাকে বাস্তবে রূপান্তর করতে হবে।"

()

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের  একাদশতম ইসলামী সম্মেলনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে  ইরাকের  আমন্ত্রণে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ১৯৮১ সালের ১ - ৫ জুন   অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর একদিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বাদশ  ইসলামিক সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হয়।  সম্মেলনের আগে সদস্য দেশগুলির সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুতিমূলক সভা ৩০ শে মে ১৯৮১ অনুষ্টিত হয়েছিল।

ইরানের মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হুসেন সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন।  তিনি  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়া-উর-রহমানের স্মরণে সুরা  আল-ফাতিহা পাঠ করে জিয়াউর রহমানের জন্য দুআ করতে সম্মেলনকে বলেছিলেন।

সম্মেলনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি, তৃতীয় ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনের ভাইস-চেয়ারম্যান, ত্রিপক্ষীয় আল-কুদস সামিট কমিটির সদস্য ও ইসলামী শান্তি কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান এর  মৃত্যুতে সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছিল সম্মেলন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে  একজন অন্যতম বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচনা করেছিল, যিনি বাংলাদেশের মানুষের অগ্রগতি, ঐক্য ও ইসলামী সংহতির প্রতি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সম্মেলন এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করে।

সেক্রেটারি জেনারেল ইসলামী সম্মেলন সংস্থার তথা ইসলামী উম্মার জন্য শহীদ  জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে  তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।