জিয়া ও মুসলিম বিশ্ব

জিয়াউর রহমানের আমলে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে  থাকে । ১৯৭৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রপ্রধানরা বাংলাদেশে সফর করেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার হয়।

 

উল্লেখযোগ্য সফরকারী রাষ্ট্রগুলো হলো:


(ক) সৌদি আরব:

৫ ফেব্রূয়ারি ১৯৭৮ সালে কাবা শরীফের ইমাম আব্দুল আজিজ

৭ জানুয়ারী ১৯৭৯ সালে উপমন্ত্রী ডাঃ সালেহ আব্দুল্লাহ

৪ মার্চ ১৯৮০ সালে মক্কার মেয়র আল মোহান দিস আব্দুল কাদির কাওসাফ

১১ এপ্রিল ১৯৮১ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল ফয়সাল

 

(খ) কাতার

১৫ ফেব্রূয়ারি ১৯৭৮ সালে শ্রমমন্ত্রী আলী আহমদ

২৪ এপ্রিল ১৯৮১ সালে কৃষি মন্ত্রী শেখ থানি বিন ফয়সাল 

 

(গ) কুয়েত

২১ মার্চ ১৯৭৮ সালে শ্রমমন্ত্রী ইউসুফ জসিম

১১ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে কুয়েতের আমীর শেখ জাবের আল সাবাহ

 

 

(ঘ) ইরাক

১ জুলাই ১৯৭৮ সালে  ভাইস প্রেসিডেন্ট তাহা মবিউদ্দিন

১০ অক্টোবর ১৯৮০ সালে শিক্ষামন্ত্রী জসিম মুহাম্মদ

৮ মে ১৯৮১ সালে উপ-প্রধানমন্ত্রী ইয়াসিন রামজান 

 

(ঙ) ২৯ অক্টোবর ১৯৭৯ সালে  ইসমাইল সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় নেতা প্রিন্স করিম আগা খান

 

 

(চ) ইরান

৮ জানুয়ারী ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট এর বিশেষ দূত আয়াতুল্লাহ হোসেন আনওয়ারী

৩১ অক্টোবর ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট এর বিশেষ দূত কাশানী   

 

 

(ছ) ২৭ জানুয়ারী ১৯৮০ সালে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার মহাসচিব শেখ মুহাম্মদ আলী আল হারাকান

       ২৫ মার্চ ১৯৮১ সালে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার মহাসচিব হাবীব শাত্তি

 

(জ) ২৬ ডিসেম্বর ১৯৮০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রশিদ আব্দুল্লাহ আল নোয়ানি

 

(ঝ)  ২৫ মার্চ ১৯৮১ সালে প্যালেস্টাইন এর প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত

 

() জিয়াউর রহমানের সময়ে মধ্য প্রাচ্যের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি জিয়াউর রহমানই চালু করেন। যার ফলে আজকের বাংলাদেশ দাড়িয়ে আছে বৈদেশিক মুদ্রার উপর  

 

 

 

() মুসলিম বিশ্ব থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য জিয়াউর রহমান-ই প্রথম ১৯৮১ সালে OIC Investment Agreement বহুপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষর করেন। মুসলিম দেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিই ছিল প্রথম চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ  একটি  ধাপ

 

() ১৯৭৫ সালের ১২ - ১৫ জুলাই মাসে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (OIC – Organisation of Islamic Conference) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ষষ্ঠ সম্মেলনের সময় জারীকৃত /-পি  প্রস্তাব  অনুসারে আল-কুদস কমিটি সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালে মরক্কোর দ্বিতীয় প্রয়াত রাজা হাসানকে এর সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই কমিটির প্রধান কাজ ছিল প্যালেস্তাইন এবং আল-কুদস আশ-শরীফের একটি শেষ পরিণতিতে পৌঁছা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে মরক্কোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তিন সদস্যের "আল-কুদস" শীর্ষ সম্মেলন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

 

() ১৯৮১ সালের জানুয়ারী মাসে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ৩য় এফ-এক্সএফ ৪৯৭৪ এর প্রস্তাব বাস্তবায়নে সি-এক্সসি৪১২৯ -এর একটি বিশেষায়িত কমিটি হিসাবে "ইসলামিক শান্তি কমিটি" নামে একটি কমিটি গঠন করে এটি অৰ্গেনাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্স উপসাগরীয় যুদ্ধ মধ্যস্থতা কমিটি (Organization of Islamic Conference Gulf War Mediation Committee ) হিসাবেও পরিচিত। এই কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দুটি ভ্রাতৃত্ববাদী দেশ ইরাক-ইরান বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, ন্যায়বিচার ও স্থায়ী সমাধানের উপায় অনুসন্ধান করার লক্ষ্যে অনুসন্ধানী মিশন পরিচালনা এবং ইরানী ও ইরাকি নেতাদের সাথে আলোচনা করা সম্মেলনের চেয়ারম্যান, রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের এবং ওআইসির জেনারেল সেক্রেটারিয়েটকে ইরাক-ইরান  বিরোধের প্রস্তাবটি কার্যকর করার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ বাকী না রাখার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই কমিটির অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন।

 

(৬)  ১৯৭৭ সালে সৌদি বাদশাহ ফাহাদের আমন্ত্রণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরব সফরে  গিয়েছিলেন সেই সফরে তিনি সৌদি জনগণের জন্য উপহার হিসাবে বাংলাদেশ থেকে নিম গাছের চারা নিয়েছিলেন নিম গাছ বৃষ্টির জন্য সহায়ক, পানি ধরে রাখতে পারে, কম পানিতে বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারে, নিম গাছের  কারনে এর আশে-পাশের অঞ্চলে অসুখ বিসুখ কম হয় এবং এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল এই গাছগুলো পরিবেশকে ঠাণ্ডা রাখে যা মরুভূমি অঞ্ছলের জন্য খুবই উপকারী । সেই নিম গাছগুলো আরাফাতের ময়দানে লাগানো হয়েছিল যা আজো লক্ষ লক্ষ হাজী ভাইদের ছায়া দিয়ে আসছে ।এই নিম গাছগুলোকে সৌদি সরকার জিয়া ট্রি (Zia Tree)”, জিয়া গাছ বা সাজারাতুল জিয়া নামে অভিহিত করে থাকে ।